জিএসটি বাবদ মোট রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।

///
56963 views
7 mins read
সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে জিএসটি বাবদ মোট রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এরমধ্যে সিজিএসটি বাবদ ২২ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা, এসজিএসটি বাবদ ২৮ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা, আইজিএসটি বাবদ ৬৯ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা (পণ্য সামগ্রী আমদানি থেকে সংগৃহীত ৩৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা সহ) এবং সেস বাবদ ৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা (পণ্য সামগ্রী আমদানি বাবদ সংগৃহীত ৬১৪ কোটি টাকা সহ) রাজস্ব হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার আইজিএসটি থেকে প্রাপ্য পাওনা হিসেবে সিজিএসটি খাতে ২৫ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা এবং এসজিএসটি খাতে ২১ হাজার ১০২ কোটি টাকা মিটিয়ে দিয়েছে। এর ফলে, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে প্রাপ্য পাওনা মেটানোর পর কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মোট রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সিজিএসটি বাবদ ৪৮ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা এবং এসজিএসটি বাবদ ৪৯ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।
জিএসটি বাবদ সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ শতাংশ এবং ২০১৯-এর ডিসেম্বরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। চলতি মাসে পণ্য সামগ্রী আমদানি থেকে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ৩৬ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ লেনদেন (পরিষেবা আমদানি সহ) খাতে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।
সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে, পূর্ববর্তী নভেম্বর মাসের তুলনায় ই-ওয়ে বিল তৈরিতে ১৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়া সত্বেও জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে ই-ওয়ে বিলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ কোটি ১০ লক্ষ। অন্যদিকে, অক্টোবর মাসে এই সংখ্যা ৭ কোটি ৪০ লক্ষ। করমান্যতা বৃদ্ধি পাওয়া তথা কেন্দ্র ও রাজ্য কর কর্তৃপক্ষগুলির কর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দরুণ নভেম্বর মাসে ই-ওয়ে বিলের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জিএসটি সংগ্রহের গড় মাসিক পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। অবশ্য, প্রথম দুটি ত্রৈমাসিকে জিএসটি বাবদ রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ ব্যবস্থায় স্বাভাবিক গতি পুনরুদ্ধার, কর ফাঁকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিশেষ করে জাল বিল তৈরির ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের দরুণ তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে। অবশ্য, জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধির পিছনে বিভিন্ন কর হার সরলিকরণ তথা মহামারী বিপর্যস্ত কর কাঠামো ক্ষেত্রে জিএসটি পরিষদের সংশোধন মূলক পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকেও রাজস্ব সংগ্রহে বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে জিএসটি বাবদ রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের ওই একই মাসে সংগ্রহ ৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকার তুলনায় ১০ শতাংশ কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!