Live

বেসরকারি হাসপাতালগুলির অতিরিক্ত মাশুল নেওয়ার বিরুদ্ধে সরকারের একগুচ্ছ পদক্ষেপ

///
35748 views
8 mins read
স্বাস্থ্যের বিষয়টি রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত, তাই বেসরকারি হাসপাতাল সহ রোগীর চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত মাশুল নেওয়ার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত প্রশাসনের। তাই বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া গেলেই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্টস (রেজিস্টেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) আইন ২০১০ এবং ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্টস (সেন্ট্রাল গভর্মেন্ট) বিধি ২০১২, যা ২০১৮ ও ২০২০-তে সংশোধন করা হয়েছে, সেই অনুসারে দেশে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরিষেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য নথিভুক্তিকরণ ও নিয়ন্ত্রণ মূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে। আইন অনুযায়ী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিভিন্ন ধরণের পরিষেবার ক্ষেত্রে মাশুলের তালিকা প্রদর্শিত করা প্রয়োজন। ইংরেজি ও স্থানীয় উভয় ভাষাতেই এই তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। আইনে আরও বলা হয়েছে, সর্বসাধারণের সহজেই চোখে পড়বে এমন জায়গায় তালিকা প্রদর্শিত করতে হবে। এছাড়াও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিকে পরিষেবার ক্ষেত্রে রোগীদের কাছ থেকে সেই মাশুল গ্রহণ করতে হবে, যা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার স্থির করেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে ন্যায্য মাশুলের তালিকা তৈরি করেছে এবং এই তালিকা সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। আইনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলায় একটি করে অভিযোগ নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে, যা মাশুল সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই কর্তৃপক্ষ অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য এবং রেজিস্টেশন পর্যন্ত বাতিল করতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যসরকারগুলি ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্টস (রেজিস্টেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) আইন অনুযায়ী আদর্শ চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কিত নীতি-নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নীতি-নির্দেশিকা বিভিন্ন সময় পরিবর্তন করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে ন্যায্য মাশুল স্থির করা হয়। এখনও পর্যন্ত ২২৭টি আদর্শ চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে এবং ২১টি সুপার স্পেশালিটি পরিষেবার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক আদর্শ চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কিত নীতি-নির্দেশিকা জারি করেছে।
ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্টস আইন রূপায়ণ ও নজরদারির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত প্রশাসনের। এখনও পর্যন্ত ১১টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই আইন গ্রহণ করেছে। বাকি ১৭টি রাজ্য ও ১টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিজস্ব আইন রয়েছে।
লোকসভায় আজ এক লিখিত জবাবে একথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডঃ ভারতী প্রবীণ পাওয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!