fbpx
পিএম শ্রী স্কুলে
পিএম শ্রী স্কুলে
///

দেশে ১৪ হাজার ৫০০-রও বেশি স্কুলকে পিএম শ্রী স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে

134663 views
17 mins read

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

উদীয়মান ভারতের জন্য পিএম স্কুলস্‌ বা পিএম শ্রী স্কুলস্‌ প্রকল্পটি দেশের ১৪ হাজার ৫০০-রও বেশি বিদ্যালয়ে কার্যকর করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার/রাজ্য সরকার/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন/স্থানীয় প্রশাসন পরিচালিত স্কুলগুলির মধ্য থেকে পিএম শ্রী স্কুলস্‌ কোন কোন বিদ্যালয়ে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই স্কুলগুলিতে ২০২০-র জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করা হবে। সংশ্লিষ্ট স্কুলের নিকটবর্তী অন্য বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষা সংক্রান্ত নানা পরামর্শ দেওয়া হবে। পিএম শ্রী স্কুল ছাত্রছাত্রীদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি, তাদের একবিংশ শতাব্দীর সময়োপযোগী হিসাবে গড়ে তুলতে সার্বিক উন্নয়নের উপর অগ্রাধিকার দেবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ২৭,৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ১৮,১২৮ কোটি টাকা ব্যয় করবে।

এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিদ্যালয়ে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে তারা উন্নত মানের শিক্ষালাভের উপভোগ্য এক পরিবেশ পাবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা নানা ভাষাভাষী ছাত্রছাত্রীদের চাহিদার দিকটি বিবেচনা করা হবে। ২০২০-র জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুসরণ করে ছাত্রছাত্রীরা যাতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষালাভ করতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পিএম শ্রী স্কুল সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অন্যান্য স্কুলগুলিকে শিক্ষাদানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। সোলার প্যানেল ও এলইডি আলো, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষের মাধ্যমে পুষ্টি উদ্যান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক মুক্ত ক্যাম্পাস, জল সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন পরম্পরা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষাদানের মতো পরিবেশ-বান্ধব উদ্যোগ স্কুলগুলিতে নেওয়া হবে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ, খেলাধূলা/খেলনার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাদান, অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের সহায়ক ব্যবস্থাপনা, আলোচনা-ভিত্তিক নমনীয় ও উপভোগ্য শিক্ষাদানের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

প্রত্যেক ক্লাসে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীরা যাতে যথাযথ শিক্ষালাভ করে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়নের জন্য বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান তারা কিভাবে করতে পারবে এবং তাদের দক্ষতার দিকটিও বিবেচনা করা হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য ক্ষেত্রীয় দক্ষতা পরিষদ  ও স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। বিদ্যালয়গুলির মধ্যে গুণমান সংক্রান্ত মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। নির্ধারিত সময় অন্তর এ বিষয়ে মূল্যায়ন করা হবে।

পিএম শ্রী স্কুলে সর্বাঙ্গীন শিক্ষালাভের জন্য উদ্ভাবনমূলক শিক্ষাদান পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। ছাত্রছাত্রীরা স্কুল ব্যাগ ছাড়াই স্কুলে আসার সুযোগ পাবে। স্থানীয় হস্তশিল্পীদের কাছে তারা বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণ নেবে। বিজ্ঞান ও গণিতের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। শিক্ষার অধিকার আইনের সুবিধা এই স্কুলগুলিতে যাতে সকলে পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। বিভিন্ন ধরনের অনুদান, যেমন – গ্রন্থাগার অনুদান, ক্রীড়া অনুদান স্কুলগুলিতে দেওয়া হবে। প্রাক্-প্রাথমিক পর্যায়ে ‘বালবাটিকা’ এবং অক্ষর জ্ঞান ও গণনার ক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

ছাত্রছাত্রীরা যাতে তাদের পছন্দমতো বিষয় নিয়ে পড়াশুনো করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যালয়গুলিতে মাতৃভাষা/আঞ্চলিক ভাষায় পঠন-পাঠনে উৎসাহ দেওয়া হবে। ভাষাগত দিক থেকে কোনও বাধা সৃষ্টি হলে, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার সাহায্য নেওয়া হবে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যাধুনিক শ্রেণীকক্ষ ও ডিজিটাল গ্রন্থাগার এইসব বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হবে। বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোর মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পিএম শ্রী স্কুলে সমগ্র শিক্ষা, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন এবং নবোদয় বিদ্যালয় সংগঠনের মতো বিভিন্ন পরিকাঠামোর সাহায্য নেওয়া হবে।

কোন কোন স্কুলকে পিএম স্কুলের মর্যাদা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য স্বচ্ছ একটি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হবে। অনলাইনের মাধ্যমে আগ্রহী বিদ্যালয়গুলি এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আবেদন করতে পারবে। বছরে চারবার এই পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে তিনটি পর্যায়ের উপর ভিত্তি করে স্কুলগুলি বাছাই করা হবে।

আবেদনের সময় স্কুলগুলির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল/কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন/জওহর নবোদয় বিদ্যালয় যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককে পাঠাবে। প্রত্যেক ব্লক বা পুরসভা থেকে সর্বোচ্চ দুটি বিদ্যালয় পিএম শ্রী স্কুলস্ প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবে। এর মধ্যে একটি স্কুল প্রাথমিক এবং অন্যটি মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের হবে। ভাস্করাচার্য ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস্ অ্যান্ড জিও ইনফরমেটিক্স – এর সাহায্যে স্কুলগুলির ভৌগলিক অবস্থানগত চিহ্ন যোগ  করা হবে। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে কোন কোন স্কুল এই প্রকল্পের আওতায় আসবে, তা নির্ধারণ করবে।

পিএম শ্রী স্কুলস্ প্রকল্পের আওতায় যে সমস্ত বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হবে, সেখানে দেশের ঐতিহ্য, ভারতীয় রীতি-নীতি ও মূল্যবোধ, বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের অবদান সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের অবগত করা হবে। এর পাশাপাশি, বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় তারা যাতে মতবিনিময় করতে পারে, সেই সংক্রান্ত উদ্যোগও নেওয়া হবে। ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ – এর ভাবনাকে সঞ্চারিত করতে এই স্কুলগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরিত্র গঠন, নাগরিকদের কর্তব্যবোধ এবং দেশ গঠনের কাজে প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করে তোলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীন বিকাশ এই স্কুলগুলি নিশ্চিত করবে। ১৮ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী প্রত্যক্ষভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। পিএম শ্রী স্কুলস্ – এর সন্নিকটে থাকা অন্যান্য স্কুলগুলিও এই স্কুলের থেকে পরামর্শ লাভ করবে এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত্ হবে।


 

Today Tripura

Today Tripura News Portal is a one-stop solution for the latest news, information and happenings taking place in Tripura.
We do our best to ensure the accuracy of all information published on our site. However, we are not responsible for any errors or omissions in our conte

Latest from Blog

Live

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে প্রদত্ত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাননীয়া শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন ৫-৮ সেপ্টেম্বর,…

ন্যূনতম বেতন কার্যকর করা

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি ১৯৪৮ সালের ন্যূনতম বেতন আইন কার্যকর করে। কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভুক্ত ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল…

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি তৈরির প্রযুক্তিতে এআরসিআই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি তৈরির জন্য একটি ফেব্রিকেশন ল্যাবরেটরি খুব শীঘ্রই ব্যাঙ্গালুরুতে স্থাপন করা হবে যাতে প্রযুক্তির…