১৯৭১-এর যুদ্ধে ভারতের সাফল্যের ৫০ বছর পূর্তিতে স্বর্ণিম বিজয় পর্বের সূচনা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

১৯৭১-এর যুদ্ধে ভারতের সাফল্যের ৫০ বছর পূর্তিতে স্বর্ণিম বিজয় পর্বের সূচনা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

///
54 views
27 mins read
১৯৭১-এ ভারত – পাক যুদ্ধে সেনাবাহিনীর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিতে সেনানীদের অবদানের বিষয়টিকে স্মরণে রেখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং আজ নতুন দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেট প্রাঙ্গনে স্বর্ণিম বিজয় পর্বের সূচনা করেছেন। এই যুদ্ধে ভারতের সাফল্যের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ষব্যপী যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, স্বর্ণিম বিজয় পর্ব উদযাপনের মধ্যদিয়ে তার সমাপ্তি ঘটছে। অনুষ্ঠানে শ্রী সিং দেশের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াতকে বিনম্রচিত্তে শ্রদ্ধা জানান। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ৮ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুতে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জেনারেল রাওয়াত প্রয়াত হন। শ্রী সিং বলেন, জেনারেল রাওয়াতের অকাল প্রয়াণে ভারত এক নির্ভিক সেনানী, এক যোগ্য পরামর্শদাতা ও প্রাণচঞ্চল ব্যক্তিত্বকে হারালো। স্বর্ণিম বিজয় পর্বের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জেনারেল রাওয়াত অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন বলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান।
শ্রী সিং স্বর্ণিম বিজয় পর্ব কর্মসূচিকে ১৯৭১-এর যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গৌরবময় সাফল্যের এক অঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই লড়াই সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ভূগোল পাল্টে দিয়েছিল। ১৯৭১-এর এই যুদ্ধে তিনি ভারতীয় সেনা, নৌ-সেনা ও বায়ু সেনার কর্মী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দেশ এঁদের আত্মত্যাগ চিরকাল স্মরণে রাখবে।
শ্রী সিং ১৯৭১-এর যুদ্ধে ভারতের সাফল্যকে মানবতাবাদ ও সর্বজনীন সৌভাতৃত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধে এই সাফল্য অদম্য জেদ ও উচ্চাশা নিয়ে দেশের অগ্রগতি অক্ষুণ্ন রাখে এবং তা আমাদের প্রেরণা যোগায়। তিনি বলেন, ১৯৭১-এর যুদ্ধ ছিল অমানবিকতার বিরুদ্ধে মানবিকতার, দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে সদ্ব্যবহারের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়ের প্রতিফলন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর বর্বরতা ও নির্বিচার আক্রমণ সমগ্র মানবতার কাছে বিপদ হয়ে উঠেছিল। তাই তাদের অন্যায় ও শোষণ থেকে মুক্ত করা ছিল ভারতের কর্তব্য।
শ্রী সিং এই লড়াইয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দৃঢ় সংকল্প, সমন্বয় ও সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। ১৯৭১-এর যুদ্ধকে ভারতের নৈতিকতা এবং গণতান্ত্রিক পরম্পরার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করে শ্রী সিং বলেন, ইতিহাসে এই ধরণের ঘটনা খুবই বিরল যে একটি দেশকে যুদ্ধে পরাজিত করে জয়ী দেশ তার কর্তৃত্ব প্রমাণ করেনি, বরং যুদ্ধ জয় থেকে আসা অধিকার শত্রু পক্ষের কবজায় থাকা দেশটির রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। ভারত কখনই কোন দেশের প্রতি কর্তৃত্ব কায়েম করেনি, এমনকি কোন দেশের এক ইঞ্চি জমিও দখল করে রাখেনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিংশ শতাব্দীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৭১-এর যুদ্ধকে অন্যতম নির্ণায়ক লড়াই হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই লড়াই থেকে প্রমাণিত হয় ধর্মের ভিত্তিতে ভারতের বিভাজন ছিল ঐতিহাসিক ভুল। ধর্মের দোহাই দিয়ে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান বেশিদিন তার স্বরূপ ধরে রাখতে পারেনি। ১৯৭১-এর যুদ্ধে পরাজয়ের পর এই দেশটি ক্রমাগত ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গেছে। পাকিস্তান সর্বদাই ভারতের শান্তি বিনষ্ট করতে চেয়েছে এবং সেজন্য সন্ত্রাসবাদ ও ভারত বিরোধী কাজকর্মে মদত যুগিয়েছে।
শ্রী সিং আরও বলেন, পাকিস্তানে ভারত বিরোধী প্রবণতা তাদের কাজকর্ম থেকে প্রমাণিত হয়। এই দেশটি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নামকরণ করেছে ঘোরি, আবদালি প্রভৃতি নামে। অন্যদিকে, ভারত তার ক্ষেপণাস্ত্রের নামকরণ করেছে আকাশ, পৃথ্বী, অগ্নি প্রভৃতি নামে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে সরকার করণীয় সবকিছুই করছে। এই লক্ষ্যে সেনাবাহিনী যাতে ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারে সেই লক্ষ্যে সংস্কারের পর চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং সামরিক বিষয়ক দপ্তর তৈরি করা হয়। আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে সবরকম প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে শ্রী সিং বলেন, প্রতিরক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনে বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্যই হল যে কোন পরিস্থিতির জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী মোজাম্মেল হক এক ভিডিও বার্তা দেন এবং সেদেশের মুক্তি যোদ্ধারা অনুষ্ঠানে সামিল হন।
ইন্ডিয়া গেট প্রাঙ্গনে আজ এই অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে স্বর্ণিম বজয় মশালের চিরন্তন শিখার বর্ষব্যাপী যাত্রাপথের পরিসমাপ্তি ঘটলো। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রী অজয় ভট্ট, সেনা প্রধান জেনারেল এম এম নারভানে, বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভি আর চৌধুরী, নৌ-সেনা প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমার, প্রতিরক্ষা সচিব ডঃ অজয় কুমার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.