Country News

Get all the latest news and updates on Country only on TodayTripura.com.Read all news including political news, current affairs and news headlines online on Country today.

////

অর্থনৈতিক সমীক্ষা 2021-22 : উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যt

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১-২২ : উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য 2021-2022এ প্রকৃতপক্ষে বৃদ্ধির আনুমানিক হার ৯.২ শতাংশ 2022-2023এ জিডিপি-র আনুমানিক বিকাশ হার ৮.০-৮.৫ শতাংশ মহামারী : সরবরাহ ক্ষেত্রে সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তিতে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অর্থ ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করে তুলছে ২০২১এ এপ্রিল-নভেম্বর সময়ে মূলধনী খাতে ব্যয়…

মুম্বাইয়ে অবতরণ করেছে উক্রেন থেকে ১৮২ জন ভারতীয় নাগরিককে নিয়ে সপ্তম উদ্ধারকারী বিমান

অপারেশন গঙ্গা’র অঙ্গ হিসাবে ইউক্রেন থেকে ১৮২ জন ভারতীয় নাগরিককে নিয়ে সপ্তম উদ্ধারকারী বিমান দেশে ফিরেছে।বিশেষ এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বিমানটি আজ সকালে মুম্বাইয়ে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।…

More

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে প্রদত্ত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতি

756547 views

ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাননীয়া শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন ৫-৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ পর্যন্ত। ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী জগদীপ ধনকরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী জি কিষাণ রেড্ডি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে সমস্ত জওয়ান শহীদ হয়েছিলেন এবং যাঁরা গুরুতরভাবে জখম হয়েছিলেন, তাঁদের সন্তান-সন্ততিদের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ছাত্র বৃত্তি’র সূচনা ছিল শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে অন্যতম একটি বিশেষ কর্মসূচি। ৭ সেপ্টেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলি আয়োজিত এক বাণিজ্যিক বৈঠকেও ভাষণ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী ৬ সেপ্টেম্বর এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। পরে, দু’দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়েও আলাপ-আলোচনা চলে। এক হৃদ্য ও আন্তরিক পরিবেশে এই সাক্ষাৎকার ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দু’দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক মূল্য এবং বহুত্ববাদের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এক গভীর সম্পর্কের কথা উঠে আসে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সাক্ষাৎকারকালে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে দুটি দেশের মধ্যে যে কৌশলগত সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেই প্রসঙ্গে বিশেষ সন্তোষও প্রকাশ করেন দুই নেতা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফর করেন ২০২১-এর মার্চ মাসে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণই ছিল শ্রী মোদীর বাংলাদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য। দুটি দেশ আবার একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানও উদযাপন করে। সম্মানিত অতিথি হিসেবে শ্রী মোদী বাংলাদেশের বিজয় দিবস-এর সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।

দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র প্রসারিত হওয়ায় দুই প্রধানমন্ত্রীই বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বছর জুন মাসে ভারত ও বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রীদের নেতৃত্বে যৌথ পরামর্শদান সম্পর্কিত কমিশনের সপ্তম বৈঠক নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই বিষয়টিরও স্মৃতিচারণ করেন দুই নেতা।

নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ, জলসম্পদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক মতবিনিময় সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সবক’টি বিষয় নিয়েই দুই প্রধানমন্ত্রী কথাবার্তা বলেন। এছাড়াও, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, নীল অর্থনীতি সহ সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলিও স্থান পায় তাঁদের আলোচ্যসূচিতে।

বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। কোভিড-১৯ অতিমারীজনিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার বিষয়টি নিয়েও তাঁরা আলোচনা করেন। এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মৈত্রী সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

দু’দেশের মধ্যে রেল, সড়ক এবং অন্যান্য সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণের আশু প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন দুই প্রধানমন্ত্রী। টোঙ্গি-আখাউরা রেলপথের প্রসার ও সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ও সেই সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুটি দেশের মধ্যে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তাকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা এবং শ্রী নরেন্দ্র মোদী। হিলি-র সঙ্গে বিরামপুর-এর যোগাযোগ স্থাপন, বেনাপোল-যশোর রেলপথ বরাবর রেলের সিগন্যাল ব্যবস্থাকে উন্নত করে তোলা, বুড়িমারী ও চ্যাংরাবান্ধার মধ্যে সংযোগ ও যোগাযোগের পুনরুদ্ধার, সিরাজগঞ্জে একটি কন্টেনার ডিপো স্থাপন এবং কাউনিয়া-লালমণির হাট-মোঘলঘাট-নিউ গীতালদহ-র মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতার আওতায় এই প্রকল্পগুলির ব্যয়ভার বহনের বিষয়েও সহমত পোষণ করেন দুই নেতা। ব্রডগেজে ট্রেন চলাচলের জন্য বাংলাদেশকে ভারত ২০টি ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে সাহায্য করায় ভারতের বিশেষ প্রশংসাও করেন শেখ হাসিনা।

বর্তমানে ভারত হল বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের এক বৃহত্তম কেন্দ্র। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের এই উন্নয়ন প্রচেষ্টায় দুই নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভারত থেকে চাল, গম, চিনি, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বাংলাদেশকে যোগান দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা অনুরোধ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে। শ্রী মোদী তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বলেন যে সব রকম পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে ভাবনাচিন্তা করা হবে।

দুই নেতাই স্বীকার করেন যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি রক্ষার বিষয়টি যে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র, সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না। জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের যে সমস্ত কাজ এখনও বাকি রয়েছে, তা দ্রুত সম্পূর্ণ করার জন্য দু’দেশের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন তাঁরা। ত্রিপুরা সীমান্ত অঞ্চলে বেড়া দেওয়ার কাজও রয়েছে এই কর্মসূচির মধ্যে। শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সীমান্ত অঞ্চল গড়ে তোলার ওপর দুই প্রধানমন্ত্রীই বিশেষ জোর দেন।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় দুই নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে এক্ষেত্রে মৃত্যুর হারকে শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য জোরকদমে কাজ করে যাওয়া উচিৎ। দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় অস্ত্রের চোরাচালান, মাদক পাচার, জাল নোটের রমরমা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীরা যেভাবে তৎপরতা দেখিয়েছেন, তার বিশেষ প্রশংসাও করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসকে নির্মূল করতে দুটি দেশই যে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ, একথাও পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা ও শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁরা বলেন যে সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার মোকাবিলায় সমস্ত রকমভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।

ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের ৩৮তম বৈঠকটি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট, ২০২২ পর্যন্ত। ভারতের জলশক্তি মন্ত্রক এবং বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রকের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউটিকে স্বাগত জানান দুই প্রধানমন্ত্রী। এই মউ স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের জলসেচের চাহিদা যেমন পূরণ হবে, অন্যদিকে তেমনই দক্ষিণ আসামের জল প্রকল্পগুলির রূপায়ণও নিশ্চিত করা যাবে।

ত্রিপুরার জলসেচ সম্পর্কিত জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ফেনী নদীর জল ভাগ করে নেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি দ্রুত সম্পাদন করার বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানানো হয় ভারতের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ ভারতের এই অনুরোধ রক্ষার জন্য বিশেষভাবে চিন্তাভাবনা করবে বলে জানানো হয়। জল সম্পর্কিত যে মউটি দু’দেশের মধ্যে ২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত হয় তার রূপায়ণের মধ্য দিয়ে ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক জল ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে পানীয় জল সরবরাহের কাজে ব্যবহারের জন্য ভারতকে প্রয়োজনীয় কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশকে এ দেশের পক্ষ থেকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, একথা স্বীকার করেন দুই প্রধানমন্ত্রীই। নদী সম্পর্কে দু’দেশের মধ্যে তথ্য ও পরিসংখ্যান বিনিময়ের জন্য যৌথ নদী কমিশন যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তাকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা এবং শ্রী নরেন্দ্র মোদী। দু’দেশের মধ্যে জল ভাগ করে নেওয়ার জন্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় খসড়া তৈরির কাজে এই তথ্য ও পরিসংখ্যান বিনিময় বিশেষভাবে সাহায্য করবে বলে তাঁরা মনে করেন। ১৯৯৬ সালে গঙ্গার জল ভাগ করে নেওয়ার জন্য যে সমঝোতাপত্রটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার আওতায় বাংলাদেশ কতটা জল এ পর্যন্ত ব্যবহার করেছে সে সম্পর্কে সমীক্ষা চালানোর জন্য একটি যৌথ কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান দুই প্রধানমন্ত্রী।

তিস্তার জলবন্টন সম্পর্কে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুরোধ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। এ সম্পর্কিত একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয় ২০১১ সালে। তিস্তার জলবন্টন সম্পর্কে আগের আলোচনার সূত্র ধরেই শেখ হাসিনা ভারতকে অনুরোধ জানান বিষয়টি বিবেচনার জন্য। দু’দেশের মধ্যে বয়ে চলা সাধারণ নদীগুলির নাব্যতা বৃদ্ধি ও দূষণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

আঞ্চলিক পর্যায়ে ভারত ও বাংলাদেশের পাওয়ার গ্রিডগুলির মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন দুই নেতাই। বিহারের কাটিহার থেকে আসামের বোড়নগর পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি বিদ্যুৎ সংবহন লাইনটি বাংলাদেশের পার্বতীপুরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, সে সম্পর্কিত প্রকল্পের কাজও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার বিষয়টিতে গুরুত্ব আরোপ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখতে ভারতকে অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন বসানোর কাজে অগ্রগতির বিষয়টি পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে প্রকল্পটির কাজ অনতিবিলম্বেই সম্পূর্ণ হবে। বাংলাদেশের পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থের চাহিদা পূরণে সহযোগিতা করার জন্য ভারতের কাছে আবেদন জানান শেখ হাসিনা। এ সম্পর্কে আলাপ-আলোচনার বাতাবরণ তৈরির কাজ শুরু করতে ভারত তার সম্মতির কথা জ্ঞাপন করে। আসাম ও মেঘালয়ে বন্যা বিপর্যয়ের কারণে আসাম থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরায় পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিক্যান্ট নিয়ে আসার কাজে ভারতকে সহযোগিতা করার জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে শোধিত পেট্রোলিয়াম সরবরাহের জন্য একটি নথিভুক্ত ‘জি-টু-জি’ সরবরাহকারী সংস্থা হিসেবে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনকে বেছে নেওয়ায় ভারত ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে।

উন্নয়ন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বিশেষ অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তার মধ্য দিয়ে সহযোগিতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভারত যেভাবে দক্ষতার সঙ্গে উন্নয়ন তহবিলের অর্থ বাংলাদেশকে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, তার বিশেষ প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের উন্নয়নের কাজে ভারতই হল প্রধান সহযোগী রাষ্ট্র।

চট্টগ্রাম ও মঙ্গলা বন্দরকে ব্যবহারের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজ চলাচলের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই নেতাই। দুটি বন্দরের মধ্যে জাহাজ চলাচল অচিরেই পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে বলে তাঁরা মনে করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার যোগাযোগ সহজতর করে তুলতে ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু চালু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানানো হয় ভারতের পক্ষ থেকে।

বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল চুক্তি রূপায়ণের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক তথা আঞ্চলিক সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত চালু করতে সম্মত হন দুই নেতাই। পশ্চিমবঙ্গের হিলি থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মেঘালয়ের মহেন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত একটি সড়ক সংযোগ গড়ে তোলা সহ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্প যাতে দ্রুত রূপায়িত হয় তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানানো হয় ভারতের পক্ষ থেকে। ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড-এর মধ্যে যে ত্রিপক্ষীয় সড়ক প্রকল্প রূপায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ।

ভারত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দেশগুলিতে পণ্য পরিবহণের জন্য ভারত বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য গোষ্ঠীগুলিকে এজন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তার বন্দর কাঠামো ব্যবহার জন্য। নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত ভূখণ্ড বাংলাদেশের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটে ভুটান পর্যন্ত রেল সংযোগ গড়ে তোলার কাজে সাহায্য করার জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটটির সদ্য উদ্বোধন হয়েছে। বাংলাদেশের এই অনুরোধ ভারত ভেবে দেখবে বলে জানিয়েছে। সীমান্ত বরাবর রেল সংযোগ গড়ে তুলতে বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিধিনিষেধ রয়েছে তা শিথিল করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে।

দু’দেশের উদ্যোগে একটি যৌথ সমীক্ষা চালানো হয় সুসংবদ্ধ অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যে। সমীক্ষায় সুপারিশ করা হয়েছে যে এ সম্পর্কিত চুক্তিটি দু’দেশেরই প্রভূত উপকারে আসবে।

দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রসারের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগুলিকে আরও উন্নত করে তোলার জন্য বিশেষত, ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন ও ল্যান্ড পোর্ট অঞ্চলে আরোপিত বিধি-নিষেধ এজন্য শিথিল করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির স্বার্থে এবং বিপণন ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তুলতে ক্ষেত্র বিশেষে এই সমস্ত বিধি-নিষেধ তুলে দেওয়ার জন্য। আগরতলা-আখাউরা-র মধ্য দিয়ে এই বিপণন ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো যেতে পারে। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে পণ্য চলাচলের জন্য একটি দ্বিতীয় গেট তৈরির যে প্রস্তাব ভারত দিয়েছে, দুটি দেশের পক্ষ থেকে তার অগ্রগতি খতিয়ে দেখে দ্রুত এই কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।

ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও গভীর ও মজবুত করে তোলার জন্য যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই নেতাই। লাইন অফ ক্রেডিট-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি দ্রুত চূড়ান্ত করার অনুকূলেও তাঁরা মত প্রকাশ করেন। বলা হয় যে এই প্রকল্পগুলি রূপায়িত হলে লাভবান হবে দুটি দেশই। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যান সংগ্রহের প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ায় এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো হয়। নৌ-নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করে তুলতে উপকূল বরাবর একটি রেডার সিস্টেম গড়ে তোলার যে প্রস্তাব ২০১৯-এ স্বাক্ষরিত মউটিতে করা হয়েছিল, তা দ্রুত রূপায়ণের কথা বলা হয় ভারতের পক্ষ থেকে।

কোভিড-১৯ অতিমারীকালে ভারত ও বাংলাদেশ পরস্পরের সঙ্গে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে। ভারত থেকে ঐ সময় ‘ভ্যাক্সিন মৈত্রী’ এবং ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ ট্রেন বাংলাদেশে পাঠানো হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতকে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। এইভাবে দু’দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে গভীরতর করে তোলার ওপর জোর দেন দুই প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশের মধ্যে রেল, সড়ক, বিমান ও জলপথে সংযোগ ও যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় বিশেষ সন্তোষও প্রকাশ করা হয়। রেল ও সড়ক পথের চেকপোস্টগুলি পুনরায় চালু করার যে সিদ্ধান্ত ভারত গ্রহণ করেছে তাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ অতিমারীর আগের অবস্থায় সবক’টি চেকপোস্টকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়। এ বছর জুন মাস থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেন নিয়মিত যাত্রা শুরু করেছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয় দুই রাষ্ট্রনেতার পক্ষ থেকে।

ভারত-বাংলাদেশ যুগ্ম প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর ওপর যে তথ্যচিত্রটি (মুজিব : দ্য মেকিং অফ আ নেশন) নির্মিত হয়েছে, তা দ্রুত রিলিজের ব্যাপারে আশাবাদী দুই প্রধানমন্ত্রীই। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রযোজনার জন্য একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার সপক্ষে মতপ্রকাশ করে দুটি দেশই। এছাড়াও, বাংলাদেশের মুজিব নগর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলা পর্যন্ত ‘স্বাধীনতা সড়ক’ চালু করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার কাজ যাতে অনতিবিলম্বেই সম্পূর্ণ হয় সে সম্পর্কেও আগ্রহ প্রকাশ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭১-এর বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের ওপর বিরল ও দুষ্প্রাপ্য ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও সংকলন করার জন্য যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি হওয়ায় ভারতের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ থেকে একটি স্টার্ট-আপ প্রতিনিধিদল ভারত সফরে আসবে। এর ফলে, উদ্ভাবন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে দুটি দেশই মনে করে। আগামী মাসগুলিতে দু’দেশের মধ্যে পুনরায় চালু হবে যুব সফর বিনিময় কর্মসূচি। বাংলাদেশের মুক্তি যোদ্ধাদের চিকিৎসার যে বন্দোবস্ত ভারতে করা হয়েছে, তার বিশেষ প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা।

সুন্দরবন সংরক্ষণে ২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি মউ স্বাক্ষরিত হয়। এর সফল বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা বলেন যে সুন্দরবন সংরক্ষণের মাধ্যমে সেখানকার অরণ্য পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং জীবন ও জীবিকার জন্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় অধিবাসীরা তাতে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।

নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলিতে দু’দেশের সহযোগিতার মাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে দুই নেতাই বলেন যে বহির্মহাকাশ, সবুজ জ্বালানি, পরমাণু অস্ত্রের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্ভব করে তুলতে দুটি দেশই পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাবে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আলোচনাকালে মায়ানমারের রাখাইন থেকে বিতাড়িত ১০ লক্ষেরও বেশি শরণার্থীকে মানবতার খাতিরে বাংলাদেশ যেভাবে আশ্রয়দানের মানসিকতা দেখিয়েছে তার বিশেষ প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত হল বাংলাদেশ ও মায়ানমার – দুটি রাষ্ট্রেরই নিকটতম প্রতিবেশী। তাই, দুটি দেশকে সহায়তা করতে ভারত প্রস্তুত। যে শরণার্থীদের জোর করে তাঁদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, তাঁরা যাতে নিরাপদে আবার সেখানে ফিরে যেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে দুটি দেশের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় সমর্থন যুগিয়ে যাবে ভারত।

আঞ্চলিক স্তরের বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার এক সুসংবদ্ধ বাতাবরণ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন শ্রী নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা। বিমস্টেক সচিবালয় গঠন এবং সে সম্পর্কিত পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদানেরও বিশেষ প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি মউ স্বাক্ষরিত হয়। রেল, সড়ক, নদী, তথ্যপ্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক ও শিল্প সংক্রান্ত গবেষণা, মহাকাশ প্রযুক্তি, সম্প্রচার, বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যেই এই মউগুলি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়াও, কয়েকটি প্রকল্প ও কর্মসূচির উদ্বোধন ও ঘোষণাও ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে :

*বাংলাদেশের রামপালে মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিট-১-এর সূচনা

*রূপসা রেল সেতুর উদ্বোধন

*খুলনা-দর্শনা রেলপথ এবং পার্বতীপুর-কাউনিয়া রেলপথ সম্পর্কিত প্রকল্প ও কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা ও চুক্তি সম্পর্কিত ঘোষণা

*বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ‘৭ মার্চের ভাষণ’-এর ২৩টি ভারতীয় এবং পাঁচটি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ সম্বলিত একটি বইয়ের উপস্থাপনা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইটি তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে

*বাংলাদেশ রেলকে ভারতের পক্ষ থেকে ২০টি ডিজেল ইঞ্জিন উপহার

*বাংলাদেশের সড়ক ও মহাসড়ক দপ্তরকে সড়ক নির্মাণের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ সরবরাহ সম্পর্কিত ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভারত সফরকালে ভারতের সরকার এবং জনসাধারণের কাছ থেকে যে উদার আতিথেয়তা ও আন্তরিকতা লাভ করেছেন, সেজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ সফরের জন্য তিনি আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ভবিষ্যতে আলাপ-আলোচনার সবক’টি মঞ্চে দু’দেশের মধ্যে পুনরায় মতবিনিময়ের সুযোগ আসবে এই আশা পোষণ করে যৌথ বিবৃতিটি শেষ হয়।


 

দেশে ১৪ হাজার ৫০০-রও বেশি স্কুলকে পিএম শ্রী স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে

356203 views

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। উদীয়মান ভারতের জন্য পিএম স্কুলস্‌ বা পিএম শ্রী স্কুলস্‌ প্রকল্পটি দেশের ১৪ হাজার ৫০০-রও বেশি বিদ্যালয়ে কার্যকর করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার/রাজ্য সরকার/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন/স্থানীয় প্রশাসন পরিচালিত স্কুলগুলির মধ্য থেকে পিএম শ্রী স্কুলস্‌ কোন কোন বিদ্যালয়ে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই স্কুলগুলিতে ২০২০-র জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করা হবে। সংশ্লিষ্ট স্কুলের নিকটবর্তী অন্য বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষা সংক্রান্ত নানা পরামর্শ দেওয়া হবে। পিএম শ্রী স্কুল ছাত্রছাত্রীদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি, তাদের একবিংশ শতাব্দীর সময়োপযোগী হিসাবে গড়ে তুলতে সার্বিক উন্নয়নের উপর অগ্রাধিকার দেবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ২৭,৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ১৮,১২৮ কোটি টাকা ব্যয় করবে।

এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিদ্যালয়ে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে তারা উন্নত মানের শিক্ষালাভের উপভোগ্য এক পরিবেশ পাবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা নানা ভাষাভাষী ছাত্রছাত্রীদের চাহিদার দিকটি বিবেচনা করা হবে। ২০২০-র জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুসরণ করে ছাত্রছাত্রীরা যাতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষালাভ করতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পিএম শ্রী স্কুল সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অন্যান্য স্কুলগুলিকে শিক্ষাদানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। সোলার প্যানেল ও এলইডি আলো, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষের মাধ্যমে পুষ্টি উদ্যান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক মুক্ত ক্যাম্পাস, জল সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন পরম্পরা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষাদানের মতো পরিবেশ-বান্ধব উদ্যোগ স্কুলগুলিতে নেওয়া হবে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ, খেলাধূলা/খেলনার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাদান, অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের সহায়ক ব্যবস্থাপনা, আলোচনা-ভিত্তিক নমনীয় ও উপভোগ্য শিক্ষাদানের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

প্রত্যেক ক্লাসে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীরা যাতে যথাযথ শিক্ষালাভ করে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়নের জন্য বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান তারা কিভাবে করতে পারবে এবং তাদের দক্ষতার দিকটিও বিবেচনা করা হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য ক্ষেত্রীয় দক্ষতা পরিষদ  ও স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। বিদ্যালয়গুলির মধ্যে গুণমান সংক্রান্ত মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। নির্ধারিত সময় অন্তর এ বিষয়ে মূল্যায়ন করা হবে।

পিএম শ্রী স্কুলে সর্বাঙ্গীন শিক্ষালাভের জন্য উদ্ভাবনমূলক শিক্ষাদান পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। ছাত্রছাত্রীরা স্কুল ব্যাগ ছাড়াই স্কুলে আসার সুযোগ পাবে। স্থানীয় হস্তশিল্পীদের কাছে তারা বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণ নেবে। বিজ্ঞান ও গণিতের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। শিক্ষার অধিকার আইনের সুবিধা এই স্কুলগুলিতে যাতে সকলে পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। বিভিন্ন ধরনের অনুদান, যেমন – গ্রন্থাগার অনুদান, ক্রীড়া অনুদান স্কুলগুলিতে দেওয়া হবে। প্রাক্-প্রাথমিক পর্যায়ে ‘বালবাটিকা’ এবং অক্ষর জ্ঞান ও গণনার ক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

ছাত্রছাত্রীরা যাতে তাদের পছন্দমতো বিষয় নিয়ে পড়াশুনো করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যালয়গুলিতে মাতৃভাষা/আঞ্চলিক ভাষায় পঠন-পাঠনে উৎসাহ দেওয়া হবে। ভাষাগত দিক থেকে কোনও বাধা সৃষ্টি হলে, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার সাহায্য নেওয়া হবে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যাধুনিক শ্রেণীকক্ষ ও ডিজিটাল গ্রন্থাগার এইসব বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হবে। বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোর মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পিএম শ্রী স্কুলে সমগ্র শিক্ষা, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন এবং নবোদয় বিদ্যালয় সংগঠনের মতো বিভিন্ন পরিকাঠামোর সাহায্য নেওয়া হবে।

কোন কোন স্কুলকে পিএম স্কুলের মর্যাদা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য স্বচ্ছ একটি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হবে। অনলাইনের মাধ্যমে আগ্রহী বিদ্যালয়গুলি এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আবেদন করতে পারবে। বছরে চারবার এই পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে তিনটি পর্যায়ের উপর ভিত্তি করে স্কুলগুলি বাছাই করা হবে।

আবেদনের সময় স্কুলগুলির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল/কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন/জওহর নবোদয় বিদ্যালয় যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককে পাঠাবে। প্রত্যেক ব্লক বা পুরসভা থেকে সর্বোচ্চ দুটি বিদ্যালয় পিএম শ্রী স্কুলস্ প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবে। এর মধ্যে একটি স্কুল প্রাথমিক এবং অন্যটি মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের হবে। ভাস্করাচার্য ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস্ অ্যান্ড জিও ইনফরমেটিক্স – এর সাহায্যে স্কুলগুলির ভৌগলিক অবস্থানগত চিহ্ন যোগ  করা হবে। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে কোন কোন স্কুল এই প্রকল্পের আওতায় আসবে, তা নির্ধারণ করবে।

পিএম শ্রী স্কুলস্ প্রকল্পের আওতায় যে সমস্ত বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হবে, সেখানে দেশের ঐতিহ্য, ভারতীয় রীতি-নীতি ও মূল্যবোধ, বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের অবদান সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের অবগত করা হবে। এর পাশাপাশি, বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় তারা যাতে মতবিনিময় করতে পারে, সেই সংক্রান্ত উদ্যোগও নেওয়া হবে। ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ – এর ভাবনাকে সঞ্চারিত করতে এই স্কুলগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরিত্র গঠন, নাগরিকদের কর্তব্যবোধ এবং দেশ গঠনের কাজে প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করে তোলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীন বিকাশ এই স্কুলগুলি নিশ্চিত করবে। ১৮ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী প্রত্যক্ষভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। পিএম শ্রী স্কুলস্ – এর সন্নিকটে থাকা অন্যান্য স্কুলগুলিও এই স্কুলের থেকে পরামর্শ লাভ করবে এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত্ হবে।


 

মহিলা ও শিশুদের জন্য বিশেষ আদালত

154897 views

শিশু ও মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য বিশেষ আদালত চালু করেছে।

২০১৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে ধর্ষণ এবং যৌন অত্যাচার থেকে শিশুদের রক্ষা করতে বিচার ব্যবস্থার জন্য ১,০২৩টি ফাস্ট ট্র্যাক বিশেষ আদালত চালু হয়েছে। সরকারের এই প্রকল্পটি ৩১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কার্যকর। ২০২২-এর ৩০ জুন পর্যন্ত ৪০৮টি বিশেষ পসকো আদালত বসেছিল।
জাতীয় আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ ও বিচার বিভাগ যৌথভাবে মহিলা ও শিশুদের আইনি পরিষেবা দিতে নানা কর্মসূচি চালাচ্ছে। নালসা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৮৭-র আওতায় আইনি পরিষেবাকে সহজ করতে ১০টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অর্থনৈতিক বা অন্য কারণে কোনও নাগরিক যেন আইনি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টিও সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। এজন্য বিনামূল্যে আইনি পরিষেবা পাওয়ার বিষয়ে চালানো হচ্ছে প্রচারাভিযান।
লোকসভায় আজ এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইন ও বিচার মন্ত্রী শ্রী কিরেন রিজিজু এই তথ্য জানান।


ন্যূনতম বেতন কার্যকর করা

452598 views

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি ১৯৪৮ সালের ন্যূনতম বেতন আইন কার্যকর করে। কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভুক্ত ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস মেশিনারি বা মুখ্য লেবার কমিশনার (কেন্দ্রীয়)-এর মাধ্যমে এই আইন কার্যকর হয়ে থাকে। রাজ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ব্যবস্থাপনায় আইনটি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না তা দেখা হয়।

সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শনের মাধ্যমে কর্মীদের যথাযথ বেতন পাওয়ার দিকটি নিশ্চিত করেন। কোথাও যদি কর্মীদের বেতন না দেওয়া হয় বা ন্যূনতম বেতনের চাইতে কম টাকা দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কর্মীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কোথাও যদি এই নির্দেশ না মানা হয় তাহলে ১৯৪৮ সালের ন্যূনতম বেতন আইন অনুসারে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পিএম কিষাণ প্রকল্পের সুবিধা জমি ব্যবহারকারী পেয়ে থাকেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জমিতে চাষ করা কৃষক পরিবার প্রতি চার মাস অন্তর ২ হাজার টাকা করে (বছরে মোট ৬ হাজার টাকা) পেয়ে থাকেন।

মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্ম নিশ্চয়তা প্রকল্পে দেশের গ্রামাঞ্চলে জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। প্রত্যেক অর্থবর্ষে প্রত্যেক পরিবার যাতে ন্যূনতম ১০০ দিন কাজ পান সেটি নিশ্চিত করা হয়। ওই পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যরা স্বেচ্ছায় অদক্ষ শ্রমিকের কাজ করে থাকেন। এই প্রকল্পে লিঙ্গ বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। প্রকল্পটিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের জন্য সুবিধাজনক কাজের সময় স্থির করা হয় এবং মহিলাদের পারিশ্রমিক দেওয়ার হার পৃথক।

২০০৫ সালের জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুসারে কর্মরত অবস্থায় কোনো কর্মী দুর্ঘটনার ফলে আহত হলে অথবা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এককালীন অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও কাজের জায়গায় সকলে যাতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পান, তাদের শিশু সন্তান যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, কেউ আহত হলে তিনি যাতে প্রাথমিক চিকিৎসা পান, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

লোকসভায় আজ এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শ্রী রামেশ্বর তেলী।


 

১৯.৫ কোটি রেশন কার্ড ডিজিটাইজড হয়েছে

569761 views
Live

রেশন কার্ড ডিজিটাইজড:

সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে রেশন কার্ডের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ; প্রায় ১৯.৫ কোটি রেশন কার্ড ডিজিটাইজড হয়েছে

জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় ১৯.৫ কোটি রেশন কার্ডের মধ্যে ৯৯ শতাংশ কার্ডেরই আধার সংযুক্তিকরণ সম্পন্ন হয়েছে

দেশের ১৯.৫ কোটি রেশন কার্ডের ডিজিটাইজেশন সম্পূর্ণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি লোকসভায় বুধবার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে একথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৯৫ শতাংশ, আসামে ৯৩ শতাংশ এবং ত্রিপুরা ও আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ১০০ শতাংশ কার্ডের ডিজিটাইজেশন সম্পূর্ণ হয়েছে।

জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় থাকা রেশন কার্ডের ৯৯ শতাংশ অর্থাৎ ১৯.৫ কোটি কার্ডের সঙ্গে আধারের সংযুক্তিকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রেশন কার্ডের আধার সংযুক্তিকরণের কাজটি সম্পূর্ণ করতে সময় দেওয়া হয়েছে। গণবন্টন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সরকার এন্ড টু এন্ড কম্পিউটারাইজেশন অফ টার্গেটেড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (টিপিডিএস) ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ করে তোলার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য রেশন কার্ডের ডিজিটাইজেশন, সুবিধাভোগীদের তথ্য ভান্ডার গড়ে তোলা, সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় কম্পিউটারের ব্যবহার, রেশন কার্ড-এর মাধ্যমে কেনাকাটার জন্য দোকানে পয়েন্ট অফ সেল মেশিন বসানো হয়েছে। দেশে ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার রেশন দোকানের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ৩২ হাজার রেশন দোকানে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা কার্যকর হয়েছে।


 

পরিপূরক পুষ্টি কর্মসূচি আধার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ

563587 views

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পরিপূরক পুষ্টি কর্মসূচির জন্য নিয়মিত খরচ জাতীয় তহবিল থেকে আসে। আধার আইন, (আর্থিক ও অন্যান্য ভর্তুকি সুবিধা ও পরিষেবা সুনির্দিষ্ট সরবরাহ) ২০১৬’র ৭ নম্বর ধারানুযায়ী মন্ত্রক এই পরিপূরক পুষ্টি কর্মসূচির বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তি নম্বরটি হ’ল – এস.ও-৩৪৮ (ই) ০৬.০২.২০১৭। পোষণ ট্র্যাকার অ্যাপে মন্ত্রক এই অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা প্রকল্পটিকে ডিজিটাল করেছে। এর ফলে, সার্বিকভাবে এই কর্মসূচিতে সুবিধাপ্রাপকদের মন্ত্রক চিহ্নিত করতে পারবে। আধার নম্বর না থাকলে এই পরিপূরক পুষ্টি কর্মসূচিতে কোনও শিশুকে বঞ্চিত করা যাবে না। মায়ের আধার নম্বরের ভিত্তিতেই এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া যাবে।

ইউআইডিএআই – এর তথ্যানুযায়ী বয়সসীমাকে নিম্নলিখিতভাবে শ্রেণী বিন্যাস করা হয়েছে:

০-৫ বছর

ক) ৫-১৮ বছর

খ) ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে

গ) সার্বিক

২০২২ সালের ২৩ জুন তারিখ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের জনসংখ্যার নিরিখে ০-৫ বছর বয়সসীমার মধ্যে ১১ কোটি ৪৭ লক্ষ ১২ হাজার ৬৫০ জন শিশুর পুষ্টিসাধনের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৭০ হাজার ৬১২ জন শিশুর আধার নম্বর রয়েছে। মন্ত্রক পরিপূরক পুষ্টি কর্মসূচিকে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে দিতে পরিসংখ্যান পুর্নর্বিন্যাস করছে।

আজ রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শ্রীমতী স্মৃতি জুবিন ইরানি।


 

শিশুদের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ব্যবস্থা

459001 views

শিশুদের সাইবার অপরাধ

শিশুদের ওপর সামাজিক মাধ্যমে পর্ণগ্রাফির উদ্বেগজনক প্রভাব যা সমাজের সর্বস্তরেই পরিব্যাপ্ত তা নিয়ে রাজ্যসভার অ্যাডহক কমিটির সমীক্ষা রিপোর্টের ভিত্তিতে ইলেক্ট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (এমইআইটিওয়াই) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সরকার তথ্যপ্রযুক্তি (অন্তরবর্তী নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল মাধ্যম এথিক্স কোড)আইন ২০২১ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

১. সময় বেঁধে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে মধ্যস্থতাকারীদের অভিযোগ প্রতিকারে সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক এবং আইন সঙ্গত নয় এই জাতীয় কোনো রকম তথ্য প্রকাশ, পরিবেশন, সম্প্রচার বা সে জাতীয় চিত্র বা তথ্যের আপলোড বা তার পুনর্বিন্যাসে বাধা দিতে মধ্যস্থতাকারীদেরকে বিভিন্ন শর্তাবলী প্রদান করতে হবে।

৩. এই জাতীয় তথ্য বা চিত্র যেসব জায়গা থেকে প্রথম উদ্ভুত হচ্ছে তা চিহ্নিত করে  ম্যাসেজ মারফত সামাজিক মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীদেরকে জানাতে বলা হয়েছে।

৪. শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপাদানগুলিকে চিহ্নিত করতে সামাজিক মাধ্যমের মধ্যস্থতাকারীদেরকে উপযুক্ত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরির ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই সাইবার অপরাধ যা বিশেষত শিশুদের যুক্ত করছে তা প্রতিরোধে সার্বিক এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তথ্য সুরক্ষা শিক্ষা এবং সচেতনতা (আইএসইএ) ব্যবস্থা নিতে এমইআইটিওয়াই সচেতনতামূলক প্রচার কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। নীতি-নির্দেশিকা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে কোনো রকম বিকৃত তথ্য বা ভুয়ো খবর যাতে পরিবেশন না করা হয় তার উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্য সুরক্ষা সচেতনতামূলক একটি ওয়েবসাইট (https://www.infosecawareness.in) এ ব্যাপারে যাবতীয় প্রাসঙ্গিক তথ্য পরিবেশন করবে।

শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষিত রাখতে (পসকো)আইন ২০১২কে ২০১৯ সালে সংশোধন করা হয়েছে। এতে শাস্তি আরও অনেক বেশি কঠোর করার সংস্থান রাখা হয়েছে। এই সংশোধনে শিশু পর্ণচিত্রের সংজ্ঞাকে ২(ডিএ) ধারায় রাখা হয়েছে। এই আইনের ১৪ নম্বর ধারাকে সংশোধন করে শিশুদেরকে পর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহারের শাস্তি কঠোর করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ ধারার সংশোধনে ফলে পর্ণচিত্র সংক্রান্ত উপাদান সামগ্রী যাতে শিশুদের যুক্ত করা হচ্ছে তার মজুত এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এগুলির ক্ষেত্রে আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশে সুনির্দিষ্ট সময় ছাড়া অন্য কোন সময় প্রচার এবং প্রসারের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

পসকো আইন ২০২০তে বলা হয়েছে এক্ষেত্রে যাবতীয় সচেতনতামূলক প্রচার বিজ্ঞপ্তি পঞ্চায়েত ভবন, কমিনিউটি সেন্টার, স্কুল-কলেজ, বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, জনবহুল এলাকা, বিমানবন্দর, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, সিনেমা হল সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে দিতে হবে এছাড়াও ভার্চুয়াল মাধ্যম, ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মাধ্যমেও তার প্রচার করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও শিশু এবং মহিলাদের সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ (সিসিপিডাব্লুসি)একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২১৩.১৯ কোটি টাকার নির্ভয়া তহবিলের অধীন এই প্রকল্প। এতে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সাইবার ফরেন্সিক এবং প্রশিক্ষণ ল্যাবোরেটরি তৈরিতে অর্থ প্রদান, জুনিয়ার সাইবার কনসালটেন্ট নিয়োগ এবং ল-এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলির তদন্তকারী, প্রসিকিউটার এবং জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের অর্থ সাহায্য প্রদান করা হবে। ২৮টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই সাইবার ফরেন্সিক ট্রেনিং ল্যাবোরেটরি তৈরি করেছে এবং ১৯ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী, প্রসিকিউটার এবং জুডিশিয়াল অফিসার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

রাজ্যসভায় আজ এক লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশ কল্যাণ মন্ত্রী শ্রীমতী স্মৃতি যুবিন ইরানী।


 

এ বছর থেকে নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে টেলি আইন পরিষেবা

562748 views

এ বছর থেকে টেলি আইন পরিষেবা দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে দেওয়া হবে’ –

জয়পুরে আজ অষ্টাদশ সারা ভারত আইন পরিষেবা সভায় একথা ঘোষণা করেন আইন ও বিচার মন্ত্রী শ্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি বলেন, আইনি পরিষেবা চাইছেন,

এমন ব্যক্তিদের টেলি/ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হবে। দেশের ১ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতে সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র সিএসসি-তে এই পরিকাঠামো রয়েছে। সহজে ও সরাসরি টেলি আইনি পরিষেবার জন্য ২০২১ সালে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ২২টি ভাষায় পাওয়া যায়। মাত্র ৫ বছরে ২০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তা এই টেলি আইনি পরিষেবা নিয়েছেন। আইন ও বিচার মন্ত্রক এবং জাতীয় আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (নালসা) – এর মধ্যে সুসংহত আইনি পরিষেবা প্রদান এর জন্য সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, দেশে বিচার প্রক্রিয়ার মানোন্নয়নে এটি বিশেষ ভূমিকা নেবে। সমঝোতা অনুযায়ী, নালসা এই টেলি আইনি পরিষেবা কর্মসূচিতে ৭০০ জন আইনজীবী দেবে। এই সংস্থা প্রায় ১ কোটি উপভোক্তার কাছে তাদের পরিষেবা পৌঁছে দেবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন শ্রী রিজিজু। তিনি ১৫ অগাস্ট ২০২২ – এর আগে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী থাকা বিচারাধীন ব্যক্তিদের দ্রুত বিচভার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হাইকোর্টগুলির প্রতি আবেদন জানান।

শ্রী রিজিজু বলেন, ভারতীয় সংবিধানের আইনি পরিকাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ ন্যায় বিচারের অধিকার। দেশের জনগণকে তা পাইয়ে দিতে আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন দপ্তর ও সরকারি সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে।


 

1 2 3
error: Content is protected !!